রাজস্ব আয় বাড়ানো ও পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১টি মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পার্বতীপুরকে কেন্দ্র করে চলাচলকারী ৪টি ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ইতোমধ্যে চারটি ট্রেনেরই দরপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
দরপত্রের আওতায় থাকা ট্রেনগুলো হলো—
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল কার্যালয়ের ২০ আগস্টের এক চিঠি অনুযায়ী, এসব ট্রেনের ভাড়া আদায়সহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কোন ট্রেন কোন রুটে?
রমনা কমিউটার পার্বতীপুর থেকে রমনা, কুড়িগ্রাম ও রংপুর হয়ে আবার পার্বতীপুরে চলাচল করে।
রামসাগর মেইল বোনারপাড়া থেকে পার্বতীপুর হয়ে পুনরায় বোনারপাড়ায় যায়।
অন্যদিকে লালমনি ও বুড়িমারী কমিউটারের নির্ধারিত রুট পার্বতীপুর–লালমনিরহাট–বুড়িমারী–পার্বতীপুর।
উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতে এসব ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দরপত্র দাখিল শেষ হলেও এখনও দরপত্র খোলা, যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের ধাপ বাকি রয়েছে। এ কাজের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক, ট্রাফিক (ট্রান্সপোর্টেশন)-কে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে উপপরিচালক/টিসি এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের এসিসিএম/আর পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সদস্য করা হয়েছে। দরপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর কথা রয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জুনে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানিয়েছিলেন, রাজস্ব ঘাটতি কমাতে ১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার প্রস্তাব রেলওয়ের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ট্রেনগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মেইল ও লোকাল ট্রেনে ভাড়া তুলনামূলক কম, পরিচালন ব্যয় বেশি। পাশাপাশি টিকিটবিহীন যাত্রী চলাচল এবং পর্যাপ্ত জনবলের অভাবেও রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আনসার আলী বলেন, সব ট্রেনে কার্যকরভাবে টিকিট পরীক্ষা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত জনবল নেই। রাজস্ব বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে বর্তমানে—
• ৬২টি আন্তঃনগর
• ৫৫টি মেইল ও কমিউটার
• ১২টি লোকাল ট্রেন চলাচল করছে।
এর মধ্যে ২৪টি মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেন ইতোমধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, এসব ট্রেন থেকে মাসে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে।
রাজস্ব আয়ের হিসাবেও ঘাটতির চিত্র রয়েছে—
২০২৩–২৪ অর্থবছর:
লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা, আয় ৬৪৯ কোটি টাকা।
২০২৪–২৫ অর্থবছর:
লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ১৬০ কোটি টাকা, আয় ৬২১ কোটি টাকা।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস:
লক্ষ্যমাত্রা ৮২৫ কোটি টাকা, আয় ৫৬৬ কোটি টাকা।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর ভাড়া আদায়, টিকিট পরীক্ষা, যাত্রীসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কীভাবে পরিচালিত হবে—তা নিয়েও যাত্রীদের আগ্রহ রয়েছে।
বর্তমান উদ্যোগ অনুযায়ী, চারটি ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বা ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থাপনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রেলওয়ের অবকাঠামো ও ট্রেন পরিচালনার অন্যান্য বিষয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলকেন্দ্র। তাই চারটি ট্রেনের এই ইজারা কার্যক্রম স্থানীয় যাত্রীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এখন অপেক্ষা দরপত্র মূল্যায়ন, ঠিকাদার নির্বাচন, চুক্তি সম্পাদন এবং শেষ পর্যন্ত কবে থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে—সেই সিদ্ধান্তের।
সূত্র: কালের সমাজ
Tags
news